প্রয়োজন যখন ফুরিয়ে যায়
একটা সময় আসবে যখন
ধীরে ধীরে আমাদের সবারই প্রয়োজনটা ফুরিয়ে যাবে, নিঃশেষ হয়ে যাবে অর্থাৎ *আমাদের না হলেও সব কিছু চলবে*
এই পৃথিবী ও চলবে।
সবচেয়ে প্রতাপশালী বাদশা ও এই পৃথিবীর কোন অবিচ্ছেদ্য অংশ নন
*ক্ষণিকের অতিথি মাত্র!*
সে হিসেবে আমরা তো অত্যন্ত নগণ্য।
গতকাল আইইবির ৭৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গিয়ে এই উপলব্ধিটা হল।
প্রায় ১৫ বছর পর আইইবির প্রাঙ্গনে পা রেখেছিলাম ওই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য।
ওই ১৫ বছর চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী আইইবি দখল করে রেখেছিল।
১৯৯৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত আইইবিতে আমার পদচারণা ছিল প্রায় প্রতিদিন অথবা প্রায় সবগুলো অনুষ্ঠানে। সেন্ট্রাল কাউন্সিল বা লোকাল কাউন্সিল পদে চার চার বার বিজয় লাভ করেছিলাম। সেই হিসেবে ওখানে অনেকের সাথে হৃদ্যতা গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল।ওই সময় ও এখনকার মতো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হতো, সম্মেলন হতো, ফলাহার অনুষ্ঠান হতো —-উপরোক্ত অনুষ্ঠানগুলিতে গিয়ে সব সময়ই অনেকের সাথেই দেখা হতো বলতে গেলে অধিকাংশই ছিল পরিচিত।নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হতো না কখনো।
কিন্তু ১৫ বছর পর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে গিয়ে পরিচিত মুখ দেখলাম মাত্র ৭,৮জন
অথচ সেখানে প্রায় দুই হাজার লোকের সমাগম ছিল।কারণ প্রকৌশলীরা বা মেম্বাররা এসেছিলেন বউ বাচ্চা সহ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাউকেই চিনি না অথচ এক সময় সবাই ছিল পরিচিত।প্রায় অপরিচিত প্রকৌশলী সমাজে নিজেকে অত্যন্ত নিঃসঙ্গ মনে হলো।
১৫ বছর আগে এই ধরনের অনুষ্ঠানে হয়তো এক, দেড় হাজার লোক হতো এবং সম্ভবত তাদের কেহ এই এখন আর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেই বয়সের কারণে।অথবা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে নিয়েছে ইতিমধ্যেই।
আমরা হয়তো অনেকেই চলে গেছি বা অনেকেই বয়সের ভারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারছি না কিন্তু তাই বলে কোন কিছুই থেমে নেই! সবকিছুই সুশৃংখলভাবে চলছে,
এক কালে আমারে ছিলাম এখন
*সেই শূন্যস্থান নতুনরা দখল করে ফেলেছে*, এইটাই পৃথিবী নিয়ম।
সম্ভবত ৫০ দশকের একটি হিন্দি গান আছে যা আমি প্রায়ই শুনি —করুন সুরের ওই গানের বক্তব্য নিম্নরূপ : আফসোস! যখন আমি থাকবো না তখন এই দুনিয়া থাকবে, দুনিয়ায় রং তামাশা চলতেই থাকবে কিন্তু আমি তখন থাকবো না!
**লেখার তারিখঃ ৮ ই মে ২০২৬