তেপান্তর
উল্লেখিত শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত, ছোটবেলার রূপকথার বইয়ে ঐ কথাটি বেশি বেশি উচ্চারিত হতো,সাথে সাথে আরেকটি বাক্য আমরা শুনতাম,
সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড় ।
বাঙালিরা অত্যন্ত ভাবুক এবং স্বপ্নবিলাস দেখে কল্পনার জগতে রঙ্গিন ফানুস উড়িয়ে
অজানায় ঘুরে বেড়ানোর
অদম্য লিপ্সা এবং সেই ভাবনাটা মনের গহীনে সুপ্ত।
তাই যখন মনের মধ্যে বেদনার সৃষ্টি হয় তখন সে এই সংসার জগতকে অস্বীকার করে তেপান্তরে চলে যেতে চায়,
দূর বহুদূর।
আমরা কিন্তু সঠিকভাবে জানিনা, তেপান্তর কতদূর!
অথবা কত দূর ভ্রমণ করলে তেপান্তরের দেখা মিলবে!
যেমন একটি গান আছে
সুয়া চলিল সুয়া চলিল, সেই যে তেপান্তর, সুয়া চলিল —–
এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে মৃত্যুর পর মানুষের আত্মাটা তেপান্তরে হারিয়ে যায়।
অন্যদিকে বহুল আলোচিত বিশেষ করে রূপকথার জগতের
সেই,
সাত সমুদ্র তেরো নদীর পাড়,
ওইটা আবার কোথায়!রূপকথার বইয়ের দৈত্য শব্দটির সম্মুখীন হয়েছি আমরা ছোটবেলায়,।ওই দৈত্যটিকে কোন অস্ত্র দিয়ে মারা যেত না,
কারণ তার জান পাখি রূপে একটি খাঁচার ভিতর আবদ্ধ ছিল এবং সেই খাঁচা ছিল সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ের
একটি পুকুরের ভিতর।
অনেক অনেক দূরের কোন একটা জায়গা কে উল্লেখ করতেই উপরোক্ত বাক্যটি উচ্চারণ করা হয়েছিল বারবার কারণ তখন দুর বলতে মঙ্গল গ্রহের কথা কল্পনায় আসে নাই।
এখন মানুষ কল্পনার জগতে বিচরণ করার সময় অনেক সময় বেদনার সিক্ত হয়ে দূর বহুদূরে পালিয়ে যেতে চায়,
সে তখন চাঁদের দেশের কথা কল্পনা করে অথবা মঙ্গল গ্রহের কথা কল্পনা করে।
যদিও ঐসব গ্রহে এখনো মনুষ্য বসতি হয় নাই অথবা হওয়ার সম্ভাবনা ও নাই,
তবুও এখন কেউ
সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ে যেতে চায় না। অথবা তেপান্তরে হারিয়ে যেতেও চায়না।
**লেখার তারিখ ও স্থানঃ ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ব্রেকফাস্ট টেবিলে